সর্বশেষ
বিএনপি দায়িত্বে এলে ‘ভারতের দাদাগিরি’ বন্ধে বেশি গুরুত্ব দেবে: মির্জা ফখরুল |
বিজ্ঞাপন

বেনাপোল দিয়ে ভারতের সঙ্গে কমেছে আমদানি-রফতানি বাণিজ্য

Admin
বাণিজ্য
Nov 25, 2025
বেনাপোল দিয়ে ভারতের সঙ্গে কমেছে আমদানি-রফতানি বাণিজ্য

সরকার পরিবর্তনের এক বছরেও ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্ক আশানুরূপ উন্নতি হয়নি। একের পর এক প্রতিবন্ধকতায় বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে ভারতের সঙ্গে কমে আসছে আমদানি ও রফতানির পরিমাণ। ব্যবসায়ীরা বলছেন, আমদানি ও রফতানির ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে সরকার দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে বড় ধরনের বাণিজ্য ও রাজস্ব ঘাটতি তৈরি হবে। তবে বন্দর কর্তৃপক্ষ বলছে, সরকার চাইলে তারা বাণিজ্য বৈঠকে এসব বিষয়ে পদক্ষেপ নেবে।

বাণিজ্য সংশিষ্টরা জানান, ৫ আগস্টের আগে বেনাপোল বন্দর দিয়ে প্রতিদিন ভারতীয় পণ্য ৫০০ থেকে ৬০০ ট্রাক আমদানি এবং বাংলাদেশি পণ্য ভারতে রফতানি হতো ২৫০ থেকে ৩০০ ট্রাক। তবে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে ৫ আগস্ট সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশ ছেড়ে ভারতে আশ্রয় নেয়। এর পর রাজনৈতিক অঙ্গনে অস্থিরতা তৈরি হয়। পরবর্তীতেতে এর প্রভাব পড়ে বাণিজ্যেে। গত বছরের ৫ আগস্টের পর এ পর্যন্ত বাংলাদেশ থেকে পণ্য আমদানিতে ৩ বার নিষেধাজ্ঞা দেয় ভারত সরকার। গত ৮ এপ্রিল ভারতের নিষেধাজ্ঞায় সড়ক পথে বন্ধ হয় ভারতের বিমান বন্দর ব্যবহার করে তৃতীয় কোন দেশে গার্মেন্টস পণ্য রফতানি।

তারা আরও জানান, পরবর্তীতে গত ১৭ মে একটি প্রজ্ঞাপনে স্থলবন্দর দিয়ে বাংলাদেশ থেকে গার্মেন্টস শিল্পের তৈরি পোশাক, সুতা,প্লাস্টিক, কাঠের তৈরি পণ্য এবং ফল ও ফল জাতীয় পণ্য আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয় ভারত। ১৫ এপ্রিল দেশীয় শিল্প সুরক্ষার কারণ দেখিয়ে বাংলাদেশ সরকারের নিষেধাজ্ঞায় ভারত থেকে সুতা, নিউজ প্রিন্ট, ডুপ্লেক্স বোর্ড, ক্রাফট পেপার, আলু, গুঁড়া দুধ, টোব্যাকো, রেডিও-টিভি পার্টস, সাইকেল ও মোটর পার্টস, ফরমিকা শিট, সিরামিকওয়্যার, স্যানিটারিওয়্যার, স্টেইনলেস স্টিলওয়্যার, মার্বেল স্ল্যাব ও টাইলস এবং মিক্সড ফেব্রিক্সের আমদানি বন্ধ আছে।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, এ অবস্থার উন্নতি না হলে বছর শেষে বড় ধরনের বাণিজ্য ও রাজস্ব ঘাটতি বাড়বে। গত অর্থ বছরে তার আগের বছরের চেয়ে বেনাপোল বন্দরে আমদানি কমেছে ৬ লাখ ৩১ হাজার ৩৩০ মেট্রিক টন এবং রফতানি কমেছে ৭৫ হাজার ২৩২ মেট্রিক টন। এছাড়া রেলপথে বাণিজ্য ঘাটতি হয়েছে ২৯ হাজার মেট্রিক টন।

বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের দফতর সম্পাদক মোস্তাফিজ্জোহা সেলিম জানান, সরকার পরিবর্তনের ১৫ মাসেও কাটেনি বাণিজ্য সংকট। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রথম ৪ মাসের তুলনায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ৪ মাসে আমদানি কমেছে ৫৫,০৭২ মেট্রিক টন এবং রফতানি কমেছে ১ লাখ ১৫ হাজার ৪১৮ মেট্রিক টন।

তিনি আরও বলেন, সরকার পরিবর্তন স্বাভাবিক। তবে আমরা আশা করব, রাজনৈতিক পেক্ষাপট পরিবর্তনে ভারত সরকার তাদের বাণিজ্য নীতির জায়গায় যেন অটুট থাকে।

বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ অ্যাসোসিয়েশনের কার্যকারী সদস্য আমিনুল হক বলেন, ভারত সরকারের একের পর এক নিষেধাজ্ঞায় বাণিজ্য ঘাটতি বাড়ছে। বাংলাদেশ সরকারও দিয়েছে কয়েকটি আমদানি পণ্যের নিষেধাজ্ঞা। এতে জরুরি অনেক পণ্যের আমদানি ও রফতানি বাণিজ্য কমেছে।

ভারত-বাংলাদেশ ল্যান্ডপোর্ট ইমপোর্ট-এক্সপোর্ট কমিটির চেয়ারম্যান মতিয়ার রহমান বলেন, স্থলপথে ব্যবসায়ীরা আরও পণ্য আমদানি-রফতানির ইচ্ছে থাকলেও বন্দরগুলোর অনুন্নত অবকাঠামোর কারণে বাণিজ্য প্রসার ঘটছে না। ভারত-বাংলাদেশ-নেপাল -ভুটান (বিবিআইএন) স্থলপথে চার দেশের বাণিজ্য চুক্তি আলোর মুখ দেখছে না। যোগাযোগব্যবস্থা সহজ আর চাহিদা আছে এমন বন্দরগুলোর অবকাঠামোর উন্নয়নের প্রতি অন্তবর্তীকালিন সরকারকে নজর দেওয়ার আহবান জানান তিনি।

এদিকে বেনাপোল রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার আয়নাল হাসান জানান, সবশেষ ২৩ নভেম্বর রেল পথে এসিআই মটরস নামে আমদানিকারক ভারত থেকে ১০০টি ট্রাকটর আমদানি করেছে। তবে গত বছরের ৫ আগস্টের পর থেকে ভারতের নিষেধাজ্ঞার কারনে ঢাকা-বেনাপোল-কলকাতা রুটে দুই দেশের মধ্যে যাত্রীবাবেনাপোল স্থল বন্দর পরিচালক শামিম হোসেন জানান, গত ২৩ নভেম্বর বেনাপোল বন্দর দিয়ে ভারত থেকে আমদানি হয়েছে ২৪৩ ট্রাক পণ্য এবং বাংলাদেশি পণ্য ভারতে রফতানি হয়েছে ৪৫ ট্রাক। নিষেধাজ্ঞার কারণে বর্তমানে বাণিজ্য কমেছে। তবে যে সব পণ্য আমদানি হচ্ছে তা দ্রুত খালাসে সহযোগিতা করা হচ্ছে। সীমান্তে বাণিজ্য বৈঠক বন্ধের কারণে অনেক সমস্যা সমাধানে বিলম্ব হয়ে থাকে। তবে দুই দেশের সরকার চাইলে আবারও বাণিজ্য বৈঠকের আয়াজন হতে পারে।


হী রেল চলাচল বন্ধ রয়েছে।