বোঝা যায়, শেখ হাসিনার সম্পদের প্রতি লোভ ছিল
শেখ হাসিনা পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে নিয়মানুযায়ী প্লট বরাদ্দের কোন আবেদন না করলেও প্লটের দখল বুঝে পেতে ঠিকই আবেদন করেছিলেন। এতে বোঝা যায়, শেখ হাসিনার সম্পদের প্রতি লোভ ছিল। শেখ হাসিনার প্লট বরাদ্দে দুর্নীতি মামলার রায়ের পর্যবেক্ষণে বিচারক এ কথা বলেন।
প্লট বরাদ্দে দুর্নীতির ৩ মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ৭ বছর করে ২১ বছর কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এছাড়া তার ছেলে সজিব ওয়াজেদ জয় ও মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলকে ৫ বছরে করে কারাদণ্ডে দণ্ডিত করেন।
বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) বেলা ১১টা ২৩ মিনিটে রায় পড়া শুরু হয়। ঢাকার বিশেষ জজ-৫-এর বিচারক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন এ রায় ঘোষণা করেন। দুপুর ১২ টা ৫ মিনিটে রায় পড়া শেষ হয়।
রায়ের পর্যবেক্ষণে বিচারক বলেন, রাজউকের প্লট বরাদ্দ নিয়ে শেখ হাসিনা আইন মানেননি। রাজউকের প্লট বরাদ্দের জন্য নির্ধারিত ফরমে আবেদন করতে হয়। কিন্তু শেখ হাসিনা তা করেননি। ২০২২ সালের ১৮ জুলাই শেখ হাসিনাকে প্লট দেওয়ার জন্য একটি ফাইল খোলা হয়। ২৬ জুলাই রাজউকের বোর্ড সভায় প্রাথমিকভাবে তাকে প্লট বরাদ্দের অনুমোদন দেওয়া হয়। ২৭ জুলাই শেখ হাসিনাকে প্লট অনুমোদনের বিষয়টি জানানো হয়। একই সাথে শেখ হাসিনাকে, তার ও তার পরিবারের নামে রাজধানীর কোথায় সরকারী বা আধা-সরকারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্লট বরাদ্দ দেওয়া হয়নি মর্মে হলফনামা জমা দিতে বলা হয়।
বিচারক বলেন, শেখ হাসিনা রাজউকে একটি হলফনামা দাখিল করেন। উক্ত হলফনামায় তিনি তার স্বামীর নামে ১৯৭৩ সালে প্লট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল তা গোপন করে শুধু তার নামে রাজধানীর কোথায় প্লট নেই মর্মে হলফনামা দাখিল করেন। এছাড়া উক্ত হলফনামায় কোন সাক্ষি, আইনজীবী বা নোটারী করা হয়নি। হলফনামা নোটারী না করলে তার আইনগত কোন ভিত্তি থাকে না। তিনি সাধারণ কোন নাগরিক নন। উনার লিগাল অ্যাডভাইজার, ল মিনিস্টার, অ্যাটর্নি জেনারেল আছে।
বিচারক তার পর্যবেক্ষণে আরও উল্লেখ করেন, ২০২২ সালের ৩ আগস্ট রাজউক শেখ হাসিনার নামে চূড়ান্তভাবে প্লট বরাদ্দ অনুমোদন করে। এরপর তাকে আরেকটি হলফনামা দিতে বলা হয়। এবারও তিনি একইভাবে হলফনামা দাখিল করেন। দাখিল করা দুটো হলফনামার একটিরও আইনগত কোন ভিত্তি নাই।
বিচারক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন এ সময় বলেন, প্লট বরাদ্দের আবেদন না করলেও এবং আইনানুযায়ী বৈধ হলফনামা দাখিল না করলেও পূর্বাচলের ১৫১১ নং প্লটের দখল বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য ২০২২ সালের ১২ সেপ্টেম্বর ঠিকই আবেদন করেন। এতে বোঝা যায়, শেখ হাসিনার সম্পদের প্রতি লোভ ছিল।
তিনটি মামলার একটিতে শেখ হাসিনাসহ আসামি ১২ জন, আরেকটিতে জয় ও শেখ হাসিনাসহ ১৭ জন, বাকি আরেকটি মামলাতে পুতুল ও শেখ হাসিনাসহ আসামি ১৮ জন।
এর আগে প্লট বরাদ্দে দুর্নীতির অভিযোগে গত জানুয়ারিতে পৃথক ৬ মামলা করে দুদক। সবগুলো মামলায় আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের সহকারী পরিচালক আফনান জান্নাত কেয়া। এরপর ৩১ জুলাই শেখ হাসিনাসহ এই তিন মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু হয়।
এসব মামলার অভিযোগপত্রে বলা হয়, সরকারের সর্বোচ্চ পদে থাকাকালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের ওপর অর্পিত ক্ষমতার অপব্যবহার করেন। তারা বরাদ্দ পাওয়ার যোগ্য না হওয়া সত্ত্বেও অসৎ উদ্দেশ্যে পূর্বাচল আবাসন প্রকল্পের ২৭ নম্বর সেক্টরের ২০৩নং রাস্তার ৬টি প্লট শেখ হাসিনাসহ তার পরিবারের সদস্যদের নামে বরাদ্দ নেন।
জয় ও পুতুলের বিরুদ্ধে যে অভিযোগে বলা হয়, রাজউকের এখতিয়ারাধীন এলাকায় বাড়ি বা ফ্ল্যাট বা আবাসন সুবিধা থাকার পরও তা হলফনামায় গোপন করে পূর্বাচল নতুন শহর আবাসন প্রকল্পে আইন লঙ্ঘন করে মাকে অবৈধভাবে প্রভাবিত করে ১০ কাঠার প্লট বরাদ্দ নেন। পুতুলের বিরুদ্ধেও একই অভিযোগ করা হয়। অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রীর সাবেক একান্ত সচিব আসামি মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন নিজে ও অপরকে শাস্তি থেকে বাঁচার উদ্দেশ্যে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের একটি নথি বিনষ্ট করেছেন অথবা গায়েব করেছেন মর্মে দুদকের তদন্তে উঠে এসেছে।
বৈঠকে বসেছে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ, পরে প্রধান উপদেষ্টার ভাষণ
ঝিনাইদহে বাফুফের সহসভাপতি ও আওয়ামী লীগ নেতা নাসের শাহরিয়ার জাহেদীর বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর
এক আসামি বলছে ফাঁদে ফেলে হত্যা, আরেকজন বলছে ত্রিভুজ প্রেম, দুই তথ্য দিল র্যাব ও পুলিশ
নতুন পোশাকে নেমেছে পুলিশ
তিন জেলায় বিএনপির প্রার্থী পরিবর্তন চেয়ে বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধে মানুষের দুর্ভোগ