সর্বশেষ
বিএনপি দায়িত্বে এলে ‘ভারতের দাদাগিরি’ বন্ধে বেশি গুরুত্ব দেবে: মির্জা ফখরুল |
বিজ্ঞাপন

ভূমিকম্পে নিহত ১০, আহত ছয় শতাধিক, আতঙ্ক

Admin
বাংলাদেশ
Nov 22, 2025
ভূমিকম্পে নিহত ১০, আহত ছয় শতাধিক, আতঙ্ক

ভূমিকম্পের তীব্র ঝাঁকুনিতে শুক্রবার সকালে রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশ কেঁপে ওঠে। এতে শিশুসহ ১০ জন নিহত ও ছয় শতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। সবচেয়ে বেশি—পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে নরসিংদীতে। ঢাকায় চার ও নারায়ণগঞ্জে একজন মারা যান। ভূমিকম্পের সময় আতঙ্কে অনেকেই ভবন থেকে লাফিয়ে পড়েন। এ ছাড়া কিছু ভবন হেলে পড়ে ও ফাটল দেখা দেয়।

নিহত ব্যক্তিরা হলেন ঢাকায় স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র রাফিউল ইসলাম (২০), ব্যবসায়ী আবদুর রহিম (৪৮), তাঁর ছেলে আবদুল আজিজ ওরফে রিমন (১২) এবং নিরাপত্তাকর্মী মাকসুদ (৫০)। নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে নিহত হয় ১০ মাস বয়সী ফাতেমা; নরসিংদীতে শিশু ওমর ফারুক (১০), তার বাবা দেলোয়ার হোসেন (৪০), ফোরকান মিয়া (৩৫) এবং বৃদ্ধ কাজম আলী (৭৫) ও নাসির উদ্দীন (৬৫)।


আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার সকাল ১০টা ৩৮ মিনিটে দেশের বিভিন্ন স্থানে ভূমিকম্প অনুভূত হয়। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ৭।

পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস সূত্র জানায়, ভূমিকম্পের সময় পুরান ঢাকার কসাইটুলীতে একটি পাঁচতলা ভবনের ছাদের রেলিং ধসে পড়ে তিন পথচারী রাফিউল ইসলাম, আবদুর রহিম ও তাঁর ছেলে আবদুল আজিজ আহত হন। তাঁদের মিটফোর্ড হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

বংশালের কসাইটুলীর ওই ভবনে থাকেন সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজের শিক্ষার্থী মো. রাওনাক। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ভূমিকম্পের সময় পুরো ভবনটি দুলছিল। ওপর থেকে কিছু পড়ার শব্দ শুনে তিনি নিচে গিয়ে দেখেন, গলিতে শিশুসহ কয়েকজন পড়ে আছে। স্থানীয় লোকজন তাঁদের দ্রুত রিকশা ও ভ্যানে হাসপাতালে নিয়ে যা

ন।


সরেজমিনে দেখা যায়, কসাইটুলীর ২২/সি কেপিগোজ স্ট্রিট গলিতে রক্ত জমে আছে। পাঁচতলা ভবনের ভেঙে পড়া রেলিং সরানোর কাজ করছে ফায়ার সার্ভিস। সেখানে পলেস্তারা পড়ে আছে। ফায়ার সার্ভিস ঢাকা সদর জোন ১-এর জোন কমান্ডার এনামুল হক বলেন, ভবনের ভেতরে কেউ আটকে আছে কি না, তাঁরা তা খোঁজ করছেন।

স্বজনেরা জানান, রাফিউল ইসলাম সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের দ্বিতীয় বর্ষে পড়তেন। মা ও বোনের সঙ্গে কসাইটুলীতে ভাড়া বাসায় থাকতেন। বাবা ওসমান গনি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ। গ্রামের বাড়ি বগুড়া সদরের গোহাইলে। ভূমিকম্পের সময় মাসহ তিনি ভবনটির নিচের দোকানে মাংস কিনছিলেন। ভবনের রেলিং ধসে রাফিউল ও তাঁর মা নুসরাত আক্তার আহত হন। রাফিউলের মাথায় আঘাত লাগে। তাঁর মা আহত হয়ে মিটফোর্ড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

রাফিউলের বোন আতিয়া ওয়াসিমা রাইদা প্রথম আলোকে বলেন, একজন পুলিশ সদস্য তাঁকে ফোন করে ঘটনা জানান। এরপর তিনি দ্রুত হাসপাতালে গিয়ে দেখেন, একমাত্র ভাই রাফিউল আর নেই। মায়ের অবস্থা গুরুতর।

নিহত আবদুর রহিমের গ্রামের বাড়ি লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রকোনায়। তাঁর ছোট ছেলে আবদুল আজিজ রিমনও এ ঘটনায় মারা গেছে। রহিম পরিবার নিয়ে পুরান ঢাকার সুরিটোলা স্কুলের পেছনে ভাড়া বাসায় থাকতেন। ফেব্রিকসের ব্যবসা রয়েছে তাঁর। তিনি তিন ছেলে ও এক মেয়ের বাবা। স্বজনেরা জানান, ছোট ছেলেকে নিয়ে তিনি মাংস কিনতে বেরিয়েছিলেন।

ঢাকায় নিহত অপর ব্যক্তি মাকসুদ মুগদার মদিনাবাগে একটি নির্মাণাধীন ভবনের নিরাপত্তাকর্মী। ভবনটির রেলিং খুলে পড়ে তিনি মারাআহত ছয় শতাধিকস্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও সংশ্লিষ্ট হাসপাতাল সূত্রগুলো জানায়, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ভূমিকম্পে ছয় শতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। তাঁদের ঢাকা ও ঢাকার বাইরের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৪৪ জন, সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ২০, জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে (পঙ্গু হাসপাতাল) ৯৯, গাজীপুরের তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৯০, শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১৫৫, গাজীপুরের টঙ্গীর শহীদ আহসানউল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালে ৮৫ জন, নরসিংদী জেলা হাসপাতালে ৪৫, নরসিংদীর ১০০ শয্যার হাসপাতালে ১০ জন ও কুমিল্লার দুটি হাসপাতালে ৮০ জনকে চিকিৎসা দেওয়ার খবর পাওয়া গেছে।


যান।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক মঈনুল আহসান (হাসপাতাল ও ক্লিনিক) প্রথম আলোকে বলেন, আহত ব্যক্তিদের অনেকেই আতঙ্কিত হয়ে লাফিয়ে পড়েছেন। তাঁদের চিকিৎসায় জরুরি চিকিৎসক দল কাজ করছে। সরকার আহত ব্যক্তিদের সব ধরনের ওষুধ দেওয়ার চেষ্টা করছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকাঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজী মুহম্মদ মুহসীন হলের চারতলা ভবন থেকে লাফ দিয়ে তানজীর হোসেন নামের এক শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়েছেন। এই হলের আরও দুজন শিক্ষার্থী ছাদ থেকে লাফ দিয়ে আহত হন বলে জানা গেছে।

এই বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হলের এক শিক্ষার্থী লাফ দিয়ে পড়ে আহত হয়েছেন। তাঁর পা ভেঙে গেছে। কবি জসীমউদ্‌দীন হল, সূর্য সেন হল, ফজলুল হক মুসলিম হল ও ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌ হলের কয়েকজন শিক্ষার্থীও লাফিয়ে বা দৌড়ে নামতে গিয়ে আহত হয়েছেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মুহসীন হলসহ কয়েকটি ভবনের পলেস্তারা খসে পড়েছে। মুহসীন হলের শিক্ষার্থী হেলাল উদ্দিন ফেসবুকে ঘটনার বিবরণ দিতে গিয়ে লিখেছেন, তিনি শুয়ে ছিলেন। ভূমিকম্প এত সময় ধরে হওয়ায় তাঁর হাত-পা কাজ করছিল না। দিশাহারা হয়ে ছাদে চলে যান। কয়েকজনকে তিন ও চারতলা থেকে লাফিয়ে পড়তে দেখেছেন, আহত হতে দেখেছেন। কয়েকজনকে অ্যাম্বুলেন্সে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।