উপহার বিনিময়ে সতর্ক থাকা
উপহার দেওয়ার মাধ্যমে মানুষের হৃদয়ে পারস্পরিক ভালোবাসা ও সৌহার্দ্য বৃদ্ধি পায়। সমাজে সহানুভূতির পরিবেশ সৃষ্টি হয় এবং মানুষ একে অপরের প্রতি আন্তরিকভাবে যত্নশীল হয়ে ওঠে। উপহার শুধু বস্তুগত লেনদেন নয়, বরং এটি হৃদয়ের আন্তরিকতা, সৌজন্য ও সম্মানের বহিঃপ্রকাশ।
আল্লাহতায়ালা পবিত্র কোরআনে দান, সহযোগিতা ও কল্যাণমূলক কাজের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘যারা নেক লোক, তারা সেই সব মানুষ, যারা আল্লাহর ভালোবাসার কারণে নিজেদের সম্পদ ব্যয় করে আত্মীয়-স্বজন, এতিম, মিসকিন, মুসাফির, সাহায্যপ্রার্থী ও দাসমুক্তির কাজে।’ -সূরা আল-বাকারা: ১৭৭
প্রকৃত নেককার ব্যক্তিরা শুধু নামাজ, রোজা বা ইবাদতেই সীমাবদ্ধ থাকেন না, তারা তাদের সম্পদও আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য ব্যয় করেন, সমাজের অসহায় ও প্রয়োজনমতো মানুষকে সাহায্য করে। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘তোমরা নেকি ও তাকওয়ার কাজে একে অপরের সঙ্গে সহযোগিতা করো।’ -সূরা আল-মায়িদা: ২
পরিভাষায় উপহার বা হাদিয়া বলতে সেই সম্পদ বা বস্তুকে বোঝায়, যা কাউকে সম্মান ও শ্রদ্ধার নিদর্শন হিসেবে প্রদান করা হয়। এটি কোনো বাণিজ্যিক লেনদেন নয়, বরং আন্তরিক ভালোবাসা, শ্রদ্ধা ও সৌহার্দ্যের বহিঃপ্রকাশ।
শরিয়তে উপহার গ্রহণের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, উপহারটি সৎ ও ন্যায্য উদ্দেশ্য থেকে প্রেরিত হতে হবে। অর্থাৎ কোনো উপহার যদি এমন উদ্দেশ্যে দেওয়া হয়, যা অন্যের অধিকার লঙ্ঘন করে, মানবাধিকারে ক্ষতি করে বা অনৈতিক ও অবৈধ কাজে সহায়তা করে, তাহলে তা গ্রহণ করা অনুমোদনযোগ্য নয়।
উপহার যদি কোনো উচ্চ পদ ও প্রশাসনিক দায়িত্ব বা ক্ষমতা অর্জনের জন্য দেওয়া হয়, যদি এটি অন্যকে প্ররোচিত করে বা প্রতিদ্বন্দ্বীর ওপর প্রভাব বিস্তার করতে ব্যবহার করা হয় কিংবা যদি এটি ঘুষ বা অন্যকোনো অবৈধ উদ্দেশ্যে দেওয়া হয়, তাহলে ওই উপহার গ্রহণ করা হরাম এবং তা বিশ্বাসঘাতকতার একটি রূপ হিসেবে গণ্য হবে।
হজরত আবু সাঈদি (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী কারিম (সা.) এক ব্যক্তিকে সদকা সংগ্রহের জন্য নিয়োগ দিয়েছিলেন। যখন তিনি ফিরে এলেন, তখন তিনি বলেন, ‘এটি সদকার সম্পদ, আর এটি আমাকে উপহার হিসেবে দেওয়া হয়েছে।’ এটা শুনে নবী কারিম (সা.) মিম্বরে আরোহণ করে আল্লাহর প্রশংসা ও মাহাত্ম্য ঘোষণা করলেন এবং বললেন, যে কর্মকর্তাকে আমরা সদকা সংগ্রহের জন্য প্রেরণ করি, যদি সে এসে বলে যে- এটি সদকার সম্পদ, আর এটি আমাকে উপহার হিসেবে দেওয়া হয়েছে, তার অবস্থা কী হবে? কেন সে শুধু নিজের পিতা-মাতার ঘরে বসে থেকে দেখল না যে তার কাছে কোনো উপহার আসে কি না? তিনি আরও বলেন, যে সত্তার হাতে আমার প্রাণ তার শপথ! যা কিছুই সে (অবৈধভাবে) গ্রহণ করবে, কেয়ামতের দিন তা কাঁধে বহন করে নিয়ে উপস্থিত হবে। যদি উট হয়, তাহলে তা চিৎকার করবে, যদি গাভি হয় তাহলে তা হাম্বা হাম্বা করবে অথবা যদি বকরি হয় তাহলে তা ভ্যা ভ্যা করবে...।’ -সহিহ বোখারি: ৭১৭৪
যদি কোনো ব্যক্তির সব উপার্জন বা বেশির ভাগ আয় হারাম হয়, তাহলে তার দেওয়া হাদিয়া গ্রহণ করা জায়েজ নয়। তবে যদি সে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেয় যে এই হাদিয়া আমার হালাল উপার্জন থেকে দেওয়া, তাহলে তা গ্রহণ করার সুযোগ রয়েছে। একইভাবে যদি কারো উপার্জনের বেশির ভাগ অংশ হালাল হয় এবং বাকি অংশ হারাম হয়, তাহলে তার দেওয়া হাদিয়া গ্রহণ করা যায় (কিন্তু এর থেকে বিরত থাকাই উত্তম)।
কোরআনবিষয়ক গবেষক ড. আল-নাজ্জারের ইন্তেকাল
মক্কা নগরীর বিশেষ ১০ বৈশিষ্ট্য
হিজরতের পথে মক্কা থেকে মদিনায় যাওয়ার বিরল অভিজ্ঞতা
একসঙ্গে অনেক মুরগি জবাইয়ের ক্ষেত্রে বিসমিল্লাহ বলার বিধান
সাড়ে চার শ বছরের এক দৃষ্টিনন্দন মসজিদ