সর্বশেষ
বিএনপি দায়িত্বে এলে ‘ভারতের দাদাগিরি’ বন্ধে বেশি গুরুত্ব দেবে: মির্জা ফখরুল |
বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো ছয়জনকে ফিরিয়ে নেবে ভারত

Admin
আন্তর্জাতিক
Nov 26, 2025
বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো ছয়জনকে ফিরিয়ে নেবে ভারত

ভারতের সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছেন, অবৈধ অভিবাসী হিসেবে চিহ্নিত করে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো ছয়জনকে আপাতত আবার ভারতে আনা যেতে পারে।

আদালত বলেছেন, তাদের নাগরিকত্ব নতুন করে তদন্ত করতে হবে। এই ছয়জনের মধ্যে রয়েছেন গর্ভবতী নারী সুন্নালি খাতুন, তার স্বামী দানিশ শেখ এবং তাদের ছেলে সাবির।

মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতি সুর্য কান্ত ও বিচারপতি জয়মাল্য ব্যানার্জির বেঞ্চে মামলাটি শুনানি হয়। সুন্নালিদের পক্ষের আইনজীবীরা আদালতকে জানান, তাদের কাছে নাগরিকত্ব প্রমাণ করে এমন নথি আছে। হঠাৎ করে ফেরত পাঠানো তাদের মৌলিক অধিকারের লঙ্ঘন।

বেঞ্চ কেন্দ্রীয় সরকারকে জানায়, জমির কাগজপত্র এবং আত্মীয়দের বয়ানের মতো তথ্য সামনে এসেছে। তাই ছয়জনকে ফেরত এনে নাগরিকত্ব যাচাই করা যেতে পারে। আদালত প্রশ্ন তোলে, যথাযথ তদন্ত ছাড়া এত দ্রুত তাদের ফেরত পাঠানো হলো কীভাবে। বিচারপতিরা বলেন, তাদের সুযোগ দিতে হবে। তারা যে নথি দিয়েছে সেগুলো দেখে তদন্ত করতে হবে, প্রয়োজন হলে আবার কথা বলতে হবে, তারপর সিদ্ধান্ত নিতে হবে। তবে বেঞ্চ একই সঙ্গে মত দিয়েছে যে অবৈধ বিদেশিদের দেশ থেকে সরিয়ে দেওয়া আইনগতভাবে যুক্তিসঙ্গত।

এই বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকারকে আগামী সোমবারের মধ্যে অবস্থান জানাতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এর আগে কেন্দ্র কলকাতা হাইকোর্টের রায় চ্যালেঞ্জ করে। হাইকোর্ট ছয়জনকে ফের দেশে আনার নির্দেশ দিয়ে বলেছিল, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনের সঙ্গে সমন্বয় করে তাদের ফেরত আনতে হবে।

কেন্দ্রের দাবি ছিল, যাদের ফেরত পাঠানো হয়েছে তারা কোনো বৈধ নথি দেখাতে পারেনি। তাদের ফেরত পাঠানোর পর পশ্চিমবঙ্গ পুলিশে একটি নিখোঁজ অভিযোগ করা হয় এবং স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েত থেকে নিবাস সনদ দেওয়া হয়। পরে দিল্লি ও কলকাতা দুই হাইকোর্টে আবেদন করা হলেও দিল্লি হাইকোর্টে করা আবেদন তুলে নেওয়া হয়, যেখানে কলকাতা হাইকোর্টের চলমান মামলার কথা উল্লেখ করা হয়নি।

সরকার আদালতে জানায়, দিল্লি পুলিশের তদন্তে প্রমাণ মিলেছে যে তারা অবৈধ বাংলাদেশি অভিবাসী এবং তারাই নিজেদের বক্তব্যে তা স্বীকার করেছে। সব আইনি প্রক্রিয়া মেনেই তাদের বাংলাদেশে পাঠানো হয়েছে।

কেন্দ্র আরও বলে, বাংলাদেশের সঙ্গে সীমান্ত খোলা এবং সহজে পারাপারযোগ্য হওয়ায় অবৈধ অনুপ্রবেশের ঝুঁকি রয়ে গেছে। এতে নিরাপত্তা হুমকি বাড়ে এবং সংগঠিত চক্র অনেক সময় টাকা নিয়ে মানুষকে সীমান্ত পার করায়।