সর্বশেষ
বিএনপি দায়িত্বে এলে ‘ভারতের দাদাগিরি’ বন্ধে বেশি গুরুত্ব দেবে: মির্জা ফখরুল |
বিজ্ঞাপন

১২ হাজার বছর পর জাগলো ইথিওপিয়ার আগ্নেয়গিরি

Admin
আন্তর্জাতিক
Nov 25, 2025
১২ হাজার বছর পর জাগলো ইথিওপিয়ার আগ্নেয়গিরি

ইথিওপিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলের আফার অঞ্চলে হেইলি গুব্বি নামক একটি আগ্নেয়গিরি প্রায় ১২ হাজার বছর পর প্রথমবারের মতো অগ্ন্যুৎপাত করেছে।

রোববার (২৩ নভেম্বর) কয়েক ঘণ্টা ধরে চলা এ অগ্ন্যুৎপাত থেকে সৃষ্ট ধোঁয়া ও ছাইয়ের ঘন মেঘ ১৪ কিলোমিটার উঁচুতে উঠে রেড সী পেরিয়ে ইয়েমেন ও ওমান পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে।

স্থানীয় সরকারি কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাইদ জানান, রাজধানী আদ্দিস আবাবা থেকে প্রায় ৫০০ মাইল উত্তর-পূর্বে, ইরিত্রিয়ার সীমান্তের কাছে অবস্থিত আগ্নেয়গিরিটি থেকে আগে কখনো অগ্ন্যুৎপাত হয়নি।

তিনি বলেন, ‘এখন পর্যন্ত কোনো মানুষ বা প্রাণীর ক্ষতি না হলেও বহু গ্রাম ছাইয়ের নিচে ঢেকে গেছে। ফলে পশুপালনকারী বাসিন্দাদের খাদ্য সংকট দেখা দিতে পারে।’

প্রায় ৫০০ মিটার উচ্চতার হেইলি গুব্বি আগ্নেয়গিরিটি রিফট ভ্যালির মধ্যে অবস্থিত, যা ভূতাত্ত্বিকভাবে অত্যন্ত সক্রিয় অঞ্চল এবং দুটি টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থল।

ভলকানিক অ্যাশ অ্যাডভাইসরি সেন্টার (VAAC) জানিয়েছে, আগ্নেয়ছাইয়ের মেঘ ইথিওপিয়া ছাড়িয়ে ইয়েমেন, ওমান, ভারত ও উত্তর পাকিস্তানের আকাশেও ছড়িয়ে পড়েছে।

অগ্ন্যুৎপাতের সময় আফার অঞ্চলে প্রচণ্ড শব্দ ও ধাক্কা অনুভূত হয়েছে বলে জানান এক বাসিন্দা আহমেদ আবদেলা। তার ভাষায়, ‘মনে হয়েছে হঠাৎ কোনো বোমা বিস্ফোরিত হয়ে ধোঁয়া আর ছাই ছড়িয়ে পড়েছে।’ সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে বিশাল সাদা ধোঁয়ার স্তম্ভ দেখা গেছে।

স্মিথসোনিয়ান ইনস্টিটিউশনের গ্লোবাল ভলকানিজম প্রোগ্রাম জানিয়েছে, হেইলি গুব্বি আগ্নেয়গিরির হোলোসিন যুগে, যখন বরফ যুগের শেষ পর্যায় চলছিল—যা প্রায় ১২ হাজার বছর আগে। এরপর আর কোনো অগ্ন্যুৎপাতের রেকর্ড নেই। মিশিগান টেকনোলজিক্যাল ইউনিভার্সিটির আগ্নেয়গিরিবিদ সাইমন কার্নও ব্লুস্কাই–এ নিশ্চিত করেছেন যে হেইলি গুব্বির হোলোসিন যুগে কোনো অগ্ন্যুৎপাতের ইতিহাস নেই।

এদিকে এই অগ্ন্যুৎপাতের ফলে বিমান চলাচলে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। ভারতের একটি ফ্লাইট অগ্ন্যুৎপাতের ছাইয়ের জন্য ইতিমধ্যেই ফিরিয়ে আনা হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আগ্নেয়গিরির ছাই বিমানের জেট ইঞ্জিনের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক। কোনও ভাবে সেই ছাই বিমানের ইঞ্জিনে ঢুকে পড়লে ইঞ্জিন বিকল হয়ে যাওয়ার প্রবল সম্ভাবনা থাকে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই আগ্নেয়গিরির ছাই মধ্যপ্রাচ্য এবং উত্তর আফ্রিকার আকাশপথে আরও কিছুদিন প্রভাব ফেলতে পারে। ফলে আন্তর্জাতিক বিমান পরিষেবায় বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা রয়েছে।