সর্বশেষ
বিএনপি দায়িত্বে এলে ‘ভারতের দাদাগিরি’ বন্ধে বেশি গুরুত্ব দেবে: মির্জা ফখরুল |
বিজ্ঞাপন

ইসলামী ব্যাংকের অসত্য তথ্য

Admin
অর্থনীতি
Nov 26, 2025
ইসলামী ব্যাংকের অসত্য তথ্য

ইসলামী ব্যাংকে দক্ষতা মূল্যায়ন পরীক্ষা বর্জন ও শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে একযোগে সাড়ে পাঁচ হাজারের বেশি কর্মকর্তা-কর্মচারীকে ছাঁটাই করা হয়েছে।

ছাঁটাই হওয়া কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, এ সিদ্ধান্ত অবৈধ ও উদ্দেশ্যমূলক, এবং এর মাধ্যমে একটি বিশেষ গোষ্ঠী ব্যাংকটিকে নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে। আদালত ও বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা উপেক্ষা করে ছাঁটাই প্রক্রিয়া পরিচালিত হওয়ায় তারা আইনি লড়াইয়ে নেমেছেন।


তাদের মতে, যদি জনবল বেশি থাকার কারণে ছাঁটাই করা হয়ে থাকে, তাহলে নতুন করে নিয়োগের প্রয়োজন হতো না। অথচ এক বছর ধরে নতুন করে প্রায় ২ হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ দিচ্ছে ব্যাংকটি।

ছাঁটাই হওয়া কর্মকর্তা-কর্মচারীরা মানবেতর জীবন-যাপন করছেন। ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে যথাযথ কোনো জবাব না পেয়ে তারা আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন। সবাই সম্মিলিতভাবে গত ১০ অক্টোবর আদালতে মামলা করেছেন।


কর্মকর্তারা আশা করছেন, রায় যদি তাদের পক্ষে আসে তবে ছাঁটাইকে অবৈধ ঘোষণা করা হবে এবং তারা পুনর্বহাল হবেন।

এ বিষয়ে খোরশেদুল আলম নামে ছাঁটাই হওয়া এক কর্মকর্তা বলেন, ছাঁটাইয়ের পর কর্মকর্তারা আদালতে মামলা করেছেন, যা বর্তমানে পেন্ডিং আছে। তারা যে ছাঁটাইয়ের শিকার হয়েছেন, তা অবৈধ ছিল দাবি করে এই মামলা করা হয়েছে। এ ছাড়া মূল্যায়ন পরীক্ষার নামে কর্মী ছাঁটাইয়ের বিরুদ্ধেও কর্মকর্তারা হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন করেছেন। খুব শিগগিরই এই রিটের রায় হবে।

তিনি আরও বলেন, আদালত বুঝতে পেরেছেন যে তাদের সঙ্গে অন্যায় করা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকও বিষয়টি উপলব্ধি করেছে। কিন্তু আদালতের রায় ও বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা উপেক্ষা করে একটি বিশেষ গোষ্ঠী ইসলামী ব্যাংককে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে। তারাই এ ধরনের অপচেষ্টা চালাচ্ছে। শুধু তাই নয়, বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে নিয়োগপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানকেও সেই গোষ্ঠী বিভিন্ন অপবাদ দিয়ে সরিয়ে দেয়। কারণ তিনি বহাল থাকলে ব্যাংকটিকে তারা নিজেদের মতো চালাতযে প্রক্রিয়ায় ইসলামী ব্যাংকে ছাঁটাই হয়েগত ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে সরকার পরিবর্তনের পর থেকেই ব্যাংকটিতে ছাঁটাই চলছে।

ভুক্তভোগীরা বলেন, দক্ষতা মূল্যায়নের নামে কর্মী ছাঁটাইয়ের উদ্দেশ্যে পরীক্ষা নিতে গত আগস্টে ইসলামী ব্যাংক একটি সার্কুলার জারি করেছিল। এতে বলা হয়েছিল, বাংলাদেশ ব্যাংক যেন বিষয়টি দ্রুত নিষ্পত্তি করে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ব্যাংককে দক্ষতা মূল্যায়ন বা নিয়োগ পরীক্ষা বাদ দিয়ে পদোন্নতি দেওয়ার সুপারিশ করে রুল জারি করেন আদালত। আদালতের এই নির্দেশ অমান্য করে ইসলামী ব্যাংক ২২ সেপ্টেম্বর আবারও একটি সার্কুলার জারি করে। সেখানে বলা হয়, বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমতিক্রমে কর্মীদের দক্ষতা মূল্যায়ন পরীক্ষার তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ২৭ সেপ্টেম্বর।

প্রায় সাড়ে ৫ হাজার কর্মকর্তার এই পরীক্ষায় অংশগ্রহণের কথা ছিল। কিন্তু ২৬ সেপ্টেম্বর আদালতের প্রতি সম্মান জানিয়ে সম্মিলিতভাবে ঢাকা ও চট্টগ্রামে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ওই কর্মকর্তারা পরীক্ষা বয়কটের ঘোষণা দেন। এরপর তারা যথাসময়ে অফিসে গেলেও তাদের নির্ধারিত কম্পিউটারে লগইন করতে পারেননি। ফলে তারা কোনো ধরনের কাজও করতে পারেননি। পরে ব্যাংক থেকে ফোন করে জানানো হয়, শৃঙ্খলাভঙ্গের দায়ে তাদের চাকরিচ্যুত করা হয়েছে।

এ বিষয়ে চাকরিচ্যুত এক কর্মকর্তা বলেন, আমরা হাইকোর্টের রায়ের প্রতি সম্মান জানিয়ে পরীক্ষা বর্জন করেছিলাম। এই সামান্য কারণে ব্যাংক আমাদের কোনোভাবেই চাকরিচ্যুত করতে পারে না। দেশের শ্রম আইনেও এ ধরনের কোনো বিধান নেই। আশা করছি, শিগগিরই আমরা ন্যায়বিচার পাব এবং পুনরায় ব্যাংকের নিয়মিত কর্মকরইসলামী ব্যাংকের অসত্য তথ্য

ইসলামী ব্যাংক বলছে, প্রয়োজনের তুলনায় তাদের লোকবল বেশি, খরচ চালাতে সমস্যা হচ্ছে—তাই ছাঁটাই করা হয়েছে। অন্যদিকে, গত দুই মাসে প্রায় ২ হাজার জনবল নিয়োগ করেছে ব্যাংকটি। এর মধ্যে এমসিজি মেসেঞ্জার কাম গার্ড পদে ৪০০ কর্মচারী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ১ হাজার ট্রেইনি অ্যাসিস্ট্যান্ট অফিসার (ক্যাশ) নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার জেনারেল পদেও নিয়োগের জন্য ভাইভা পরীক্ষা হয়েছে, তবে কতজনকে নেওয়া হবে তা জানা যায়নি।

এ প্রসঙ্গে খোরশেদুল আলম বলেন, ব্যাংকটি আমাদের সঙ্গে মিথ্যাচার করেছে। লোকবল যদি বেশি থাকত, তাহলে কেন এখন আবার নতুন করে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে? মূলত একটি বিশেষ গোষ্ঠী ব্যাংকটিকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার জন্যই এসব অন্যায় কাজ করছে। আমাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিনের সৎ ও অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের অবৈধভাবে বাদ দিয়ে অনভিজ্ঞদের নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে।

এ বিষয়ে ইসলামী ব্যাংকের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, আমাদের ব্যাংকের মোট ২২ হাজার কর্মীর মধ্যে এখন অর্ধেকই চট্টগ্রামের লোক। কিন্তু ২০১৭ সালে কর্মী সংখ্যা ছিল প্রায় ১০ হাজার। এরপর থেকে অযোগ্য লোক নিয়োগের মাধ্যমে ব্যাংকটিকে ধ্বংস করা হয়েছে। এখন আমরা ব্যাংকের স্বার্থেই যোগ্যতা মূল্যায়ন পরীক্ষার ব্যবস্থা করেছি। এই পরীক্ষায় যারা অংশগ্রহণ করেননি এবং শৃঙ্খলাভঙ্গ করেছেন, তাদের চাকরিচ্যুত করা হয়েছে।

্তা হিসেবে কাজ করতে পারব।

ছে

ে পারবে না।