ফের পেঁয়াজ সিন্ডিকেট!
দেশব্যাপী পেঁয়াজের বাজার নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়েছে। লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে দাম। ফের পেঁয়াজ সিন্ডিকেটের দাপটে অতীতের মতো ২০০/৩০০ টাকা কেজিকে পেঁয়াজ কেনার আতঙ্ক ঘিরে ধরেছে সাধারণ মানুষকে।
বাজার পর্যালোচনা করে দেখা যায়, সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিপ্রতি দাম বেড়েছে ২০ থেকে ৪০ টাকা। আবার পাইকারি বাজারের সঙ্গে সমন্বয় নেই খুচরা বাজারের। এতে ভোক্তার পকেট কেটে অতিরিক্ত লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে। মাসের শুরুতে ৬৫/৭০ টাকায় খুচরা বাজারে পেঁয়াজ বিক্রি হলেও এখন সেটা স্থানভেদে ১২০/১৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
ঢাকা ও চট্টগ্রামের ব্যবসায়িক সূত্রগুলো জানায়, পেঁয়াজের বাজারে আবার হানা দিয়েছে সিন্ডিকেট। সিন্ডিকেটের নেটওয়ার্কে আছে আমদারিকারক থেকে খুচরা ব্যবসায়ীরা। তারাই জিম্মি করে রেখেছে বাজার ও সাধারণ মানুষকে।
মূলত ঢাকা ও চট্টগ্রামে ২০ জনের একটি সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করছে পেঁয়াজের বাজার। প্রতিটি জেলার পাইকারি বাজারে রয়েছে তাদের ১০/১৫ জন আড়তদার সহযোগী। এই চক্রই কারসাজি করে পেঁয়াজ, আলু ও আদার ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করছে। বাজারে কৃত্রিম সংকট ও চাপ সৃষ্টি করার জন্য গোপন গুদাম থেকে ধীরে ধীরে মাল খালাস করছে গোষ্ঠীটি। তারপর নিজেদের মধ্যে আলাপ করে নির্ধারণ করছে দাম। একচেটিয়া আধিপত্য থাকায় তাদের নির্ধারিত দামের বাইরে কেউ যেতে পারছে না। তাদের ইঙ্গিতে দাম চড়ছে পেঁয়াজের।
ঢাকা, চট্টগ্রাম থেকে শুরু করে জেলা-উপজেলা পর্যন্ত সিন্ডিকেটের নেটওয়ার্কের পেছনে ছিল বিগত ক্ষমতাসীন সরকারের অনেকের সংযোগ। ক্ষমতার পালাবদলের পর নতুন রাজনৈতিক শক্তির সঙ্গে সখ্যতা তৈরি করেছে এই সিন্ডিকেট গোষ্ঠী। প্রশাসনের সঙ্গেও রয়েছে তাদের দহরম-মহরম।
একটি সূত্র জানায়, বিগত আমলে দাম বাড়ানোর জন্য গুদামে পেঁয়াজ রেখে পচানো হয়েছিল। এমনকি, চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জের ড্রেনে ফেলে দেওয়া হয়েছিল বস্তার বস্তা পেঁয়াজ। বাজারে সংকট বাড়ানোর জন্য এসব অপকর্ম করেছিল ব্যবসায়ী দুষ্টচক্রটি। যে কারণে পেঁয়াজের দাম অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছিল।
বর্তমানেও পিয়াজের উৎপাদনের তুলনায় চাহিদা কিছুটা বেশি হওয়ায় সিন্ডিকেট পুরনো খেলায় মেতেছে। সুযোগ কাজে লাগিয়ে মজুদদারির মাধ্যমে দাম বাড়ানো হয়েছে। পাইকারি বাজারের সূত্রগুলো বলছে, অভিযান চালানো হলে অনেক গুদামে হাজার হাজার টন পিয়াজ পাওয়া যাবে। কিন্তু অদৃশ্য কারণে এদেরকে ধরা হচ্ছে না।
ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেন, ভোক্তা অধিকার ও প্রশাসনের বিভিন্ন সংস্থা নানা সময়ে অভিযান চালিয়ে খুচরা ব্যবসায়ীদের জরিমান করছে। কিন্তু বাজার নিয়ন্ত্রণকারী সিন্ডিকেটকে কিছুই করছে না। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সিন্ডিকেট চক্রের রাঘব-বোয়ালদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়া হলে পিয়াজের বাজার স্থিতিশীল হবে বলে তারা মনে করেন। তাছাড়া, আগামী ১৫/২০ দিনের মধ্যে নতুন পিয়াজ বাজারে আসা শুরু হলেও দাম কমতে পারে বলে তাদের ধারণা।
উল্লেখ্য, ভারতের আটটি রাজ্যে পিয়াজ উৎপাদন হয়, তাই তারা সারা বছর বাজার স্থিতিশীল রাখতে পারে। বাংলাদেশে বছরে একবারই পিয়াজ উৎপাদন হয় এই শীতকালে। এখন কৃষকের কাছেই পণ্য নেই, সরকারও আমদানি করছে না। ফলে দাম বেশি। যার সুযোগ নিচ্ছে সিন্ডিকেট চক্র।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, প্রতিবছরই অক্টোবর, নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসে পিয়াজের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। অক্টোবরে দাম বাড়তে শুরু করে, নভেম্বর-ডিসেম্বরে কেজিপ্রতি দাম অনেক বেশি হয়। পরে ভারত থেকে আমদানি করেই দাম কমানো হয়। ব্যবসায়ীরা জানান, উৎপাদন থেকে ভোক্তা পর্যন্ত একাধিক ধাপে পিয়াজের হাতবদল হয়। প্রতিটি ধাপেই মধ্যস্বত্বভোগীরা মুনাফা করে। তাদের এই অতি মুনাফার কারণেই মৌসুমে পিয়াজে
র দাম বেড়ে যায়।
প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা কমছে, বাড়বে মূল্যস্ফীতি: অর্থ উপদেষ্টা
কোন পদ্ধতিতে ভোলায় নতুন শিল্পে সাশ্রয়ী দরে গ্যাস!
বাংলাদেশ সরকারের ঋণ প্রায় সাড়ে ২১ লাখ কোটি টাকা!
কক্সবাজারে গোল্ড স্যান্ডস্ গ্রুপের 'বেস্ট ওয়েস্টার্ন প্লাস বে হিলস' এর উদ্ভোধন
যুক্তরাষ্ট্র থেকে এসেছে গমের তৃতীয় চালান