বাংলাদেশ সরকারের ঋণ প্রায় সাড়ে ২১ লাখ কোটি টাকা!
বাংলাদেশের সরকারি মোট ঋণ প্রথমবারের মতো ২১ ট্রিলিয়ন টাকা অতিক্রম করেছে। রাজস্ব আয়ের দুর্বলতা ও বড় উন্নয়ন প্রকল্পে উচ্চ ব্যয়ের ফলে ঋণ প্রবৃদ্ধি দীর্ঘদিন ধরে বাড়তে থাকায় এই রেকর্ড তৈরি হয়েছে। অর্থ বিভাগের সর্বশেষ ঋণ বুলেটিনে দেখা গেছে, চলতি বছরের জুন শেষে সরকারি মোট ঋণ দাঁড়িয়েছে ২১ দশমিক ৪৪ ট্রিলিয়ন টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ১৪ শতাংশ বেশি।
বুলেটিন অনুযায়ী, বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ বেড়ে হয়েছে ৯ দশমিক ৪৯ ট্রিলিয়ন টাকা— মোট ঋণের প্রায় ৪৪ শতাংশ। গত পাঁচ বছরে বিদেশি ঋণের পরিমাণ দ্বিগুণের কাছাকাছি বৃদ্ধি পেয়েছে। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র, ঢাকা মেট্রোরেল এবং মাতারবাড়ি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্পসহ বড় অবকাঠামো প্রকল্পে ব্যয়ের চাপে বৈদেশিক অর্থায়নের ওপর নির্ভরতা বেশি দেখা যাচ্ছে। একই সময়ে অভ্যন্তরীণ ঋণও বাড়তে বাড়তে দাঁড়িয়েছে ১১ দশমিক ৯৫ ট্রিলিয়ন টাকায়, যা গত অর্থবছরের তুলনায় ১১ শতাংশ বেশি।
এই প্রবণতা নিয়ে অর্থনীতিবিদদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। সিপিডির সম্মানিত ফেলো অধ্যাপক ড. মোস্তাফিজুর রহমান মনে করেন, রাজস্ব আদায়ের ধীরগতির কারণে উন্নয়ন বাজেট পুরোপুরি নিজস্ব আয়ে সমর্থন করা যাচ্ছে না, ফলে সরকারকে স্থানীয় ব্যাংকিং ব্যবস্থা ও বিদেশি অর্থদাতাদের কাছ থেকে বেশি ঋণ নিতে হচ্ছে। তার মতে, অভ্যন্তরীণ ঋণে সুদের হার এখন উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে, আর বৈদেশিক ঋণের ক্ষেত্রেও অনুদানের পরিমাণ কম, ঋণের শর্ত কঠিন এবং পরিশোধের সময়সীমা তুলনামূলক স্বল্প— যার সব মিলিয়ে ঋণ পরিশোধের চাপ দ্রুত বাড়ছে।
সরকারের সুদ পরিশোধের ব্যয়ও এরই সঙ্গে বাড়ছে। গত অর্থবছরে সুদ হিসেবে পরিশোধ করা হয়েছে ১ লাখ ৩২ হাজার কোটি টাকার বেশি, যা এক বছরে ১৭ শতাংশ বৃদ্ধি। বিদেশি ঋণের সুদপরিশোধ বেড়েছে ২১ শতাংশ এবং দেশীয় ঋণের সুদ বেড়েছে ১৬ শতাংশ। ট্রেজারি বিল ও বন্ডের মাধ্যমে বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে নেওয়া ঋণের সুদ এক বছরে ৪৩ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে।
আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর পর্যবেক্ষণ বলছে, বাংলাদেশের ঋণ ঝুঁকি মধ্যমস্তরে উঠে এসেছে। আইএমএফের সর্বশেষ ঋণ স্থায়িত্ব বিশ্লেষণে দেখা গেছে, দেশের ঋণ-রপ্তানি অনুপাত ১৬৩ শতাংশে পৌঁছেছে, যা তাদের পূর্বাভাসের তুলনায় অনেক বেশি। ঋণ-রাজস্ব অনুপাতও বাড়তে থাকায় নতুন ঋণ গ্রহণের সুযোগ সীমিত হয়ে আসছে। এই ঝুঁকির কারণে আইএমএফ চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের জন্য বৈদেশিক ঋণ গ্রহণের সীমা নির্ধারণ করেছে ৮ দশমিক ৪৪ বিলিয়ন ডলার, যা ত্রৈমাসিকভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে।
বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের বিশেষজ্ঞরা ঋণ ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা আরও সমন্বিত করার পরামর্শ দিয়েছেন। তাদের মূল্যায়নে দেখা যায়, বর্তমানে ঋণ ব্যবস্থাপনার কাজ বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে বিভক্ত থাকায় তথ্যের অসঙ্গতি ও পরিকল্পনা বাস্তবায়নে জটিলতা তৈরি হয়। এজন্য সরকার একটি সমন্বিত ঋণ ব্যবস্থাপনা কার্যালয় (ডিএমও) গঠনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। নতুন এই কার্যালয় সব ধরনের সরকারি ও সরকার-গ্যারান্টিযুক্ত ঋণ তদারকি, বার্ষিক ঋণ পরিকল্পনা প্রস্তুত, ঋণ ঝুঁকি মূল্যায়ন এবং কেন্দ্রীয় ডাটাবেজ তৈরির মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজ করবে।
প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থাপনা, দক্ষ মানবসম্পদ ও নির্ভরযোগ্য তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত হলে এ ধরনের সংস্কার ভবিষ্যতে ঋণ ব্যয় কমাবে এবং আর্থিক স্থিতিশীলতা বাড়াবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা আরও মনে করছেন, রাজস্ব আহরণ বাড়ানো, রপ্তানি আয় বৈচিত্র্যকরণ এবং ঋণের শর্ত বাছাইয়ে সতর্কতা না বাড়লে দেশের ঋণ চাপ আরও বাড়তে পারে।
প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা কমছে, বাড়বে মূল্যস্ফীতি: অর্থ উপদেষ্টা
কোন পদ্ধতিতে ভোলায় নতুন শিল্পে সাশ্রয়ী দরে গ্যাস!
কক্সবাজারে গোল্ড স্যান্ডস্ গ্রুপের 'বেস্ট ওয়েস্টার্ন প্লাস বে হিলস' এর উদ্ভোধন
ফের পেঁয়াজ সিন্ডিকেট!
যুক্তরাষ্ট্র থেকে এসেছে গমের তৃতীয় চালান