ইসলামের দৃষ্টিতে ভূমিকম্পের কারণ ও শিক্ষা
শুক্রবার (২১ নভেম্বর) সকাল ১০টা ৩৮ মিনিটে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে শক্তিশালী ভূমিকম্প অনুভূত হয়। এই ভূমিকম্পে ইতোমধ্যে ঢাকা ও নরসিংদীতে দু’শিশুসহ কমপক্ষে ছয়জন নিহত হয়েছেন। এছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, গাজীপুরে কারখানা শ্রমিক ও ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল নরসিংদীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে তিন শ’ র কাছাকাছি মানুষের আহত হওয়ার খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে।
বাংলাদেশের আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পটির তীব্রতা ছিল ৫ দশমিক ৭। উৎপত্তিস্থল নরসিংদীর মাধবদী। ভূমিকম্পটিকে মাঝারি মাত্রার বলছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
ইসলামি স্কলারদের মতে, আল্লাহর পক্ষ থেকে এই বিপদ কোনো সাধারণ ঘটনা নয়, বরং এটি মানুষের জন্য গভীর সতর্কবার্তা। এ প্রসঙ্গে পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘আমি তোমাদেরকে ভয়, ক্ষুধা ও ক্ষতি দিয়ে এবং প্রাণহানি ও সম্পত্তি এবং ফল-ফলাদির স্বল্পতার মাধ্যমে পরীক্ষা করব। আর আপনি ধৈর্যশীলদের সুসংবাদ দিন।’ -সূরা বাকারা: ১৫৫
এ জাতীয় ঘটনাকে গুনাহ ও অন্যায়ের সতর্কবার্তা হিসেবে দেখার কথা বলা হয়েছে হাদিসে। হজরত আলী বিন আবু তালিব (রা.) থেকে বর্ণিত, হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘আমার উম্মাত যখন পনেরোটি বিষয়ে লিপ্ত হবে তখন তাদের ওপর বিপদ-আপদ নেমে আসবে। প্রশ্ন করা হলো হে আল্লাহর রাসুল, তা কি কি? তিনি বললেন, যখন গনিমতের সম্পদ ব্যক্তিগত সম্পদে পরিণত হবে, আমানত লুটের সম্পদে পরিণত হবে, জাকাত জরিমানা হিসেবে গণ্য হবে, পুরুষ তার স্ত্রীর আনুগত্য করবে এবং মায়ের অবাধ্য হবে, বন্ধুর সঙ্গে ভালো ব্যবহার করবে কিন্তু পিতার সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করবে, মসজিদে শোরগোল করা হবে, সবচেয়ে খারাপ চরিত্রের লোক হবে তার সম্প্রদায়ের নেতা, কোনো ব্যক্তিকে তার অনিষ্টতার ভয়ে সম্মান করা হবে, মদ পান করা হবে, রেশমি বস্ত্র পরিধান করা হবে, নর্তকী গায়িকাদের প্রতিষ্ঠিত করা হবে, বাদ্যযন্ত্রগুলোর বৃদ্ধি হবে এবং এই উম্মতের শেষ সময়ের লোকেরা তাদের পূর্ব যুগের লোকদের অভিসম্পাত করবে, তখন তোমরা একটি অগ্নিবায়ু অথবা ভূমিধ্বস অথবা চেহারা বিকৃতির আজাবের অপেক্ষা করবে।’ -জামে তিরমিজি: ২২১০
এ ছাড়া ভূমিকম্পের মাধ্যমে মানুষ কেয়ামতের কথা স্মরণ করে। মহান আল্লাহ ইরশাদ করেছেন, ‘নিশ্চয় কেয়ামতের ভূকম্পন একটি ভয়াবহ ব্যাপার। সেদিন তোমরা দেখবে প্রত্যেক স্তন্য দানকারিনী আপন দুগ্ধপোষ্য শিশুকে ভুলে যাবে এবং প্রত্যেক গর্ভধারিণী তার গর্ভপাত করে ফেলবে, আপনি দেখবেন মানুষকে মাতালের মতো, অথচ তারা মাতাল নয়। তবে আল্লাহর আজাবই কঠিন।’ -সূরা হজ: ১-২
ভূমিকম্প থেকে আমাদের জন্য শিক্ষা ও করণীয় হলো- আল্লাহর শক্তি ও কুদরত উপলব্ধি করা। মহান আল্লাহ ইরশাদ করেছেন, ‘যখন প্রবল কম্পনে জমিন প্রকম্পিত হবে। আর জমিন তার বোঝা বের করে দেবে। আর মানুষ বলবে, এর কী হলো? সেদিন জমিন তার বৃত্তান্ত বর্ণনা করবে। কারণ আপনার রব তাকে নির্দেশ দিয়েছেন। সেদিন মানুষ বিক্ষিপ্তভাবে বের হয়ে আসবে যাতে দেখানো যায় তাদেরকে তাদের নিজদের কৃতকর্ম।’ -সূরা জিলজাল: ১-৬
বেশি বেশি তওবা-ইস্তিগফার করা। হজরত আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেছেন, আমি এক রাতে হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে বিছানায় না পেয়ে (অন্ধকারে) হাতড়াতে লাগলাম। হঠাৎ আমার হাত খানি তার পায়ের তালুতে গিয়ে লাগল। তিনি সিজদারত আছেন, পা দুটি খাড়া রয়েছে। তিনি বলছিলেন, ‘হে আল্লাহ! আমি আপনার অসন্তোষ থেকে তোমার সন্তোষের মাধ্যমে এবং আপনার আজাব থেকে আপনার ক্ষমার মাধ্যমে আশ্রয় প্রার্থনা করছি। এবং আমি আপনার (শাস্তি) থেকে আপনার আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আমি আপনার প্রশংসা করে শেষ করতে সক্ষম নই। আপনি তেমনই যেমন আপনি নিজে আপনার প্রশংসা করেছ।’ -সহিহ মুসলিম: ৪৮৬
আল্লাহতায়ালা আমাদের হেফাজত করুন এবং ক্ষমা করুন। আমিন।
কোরআনবিষয়ক গবেষক ড. আল-নাজ্জারের ইন্তেকাল
মক্কা নগরীর বিশেষ ১০ বৈশিষ্ট্য
হিজরতের পথে মক্কা থেকে মদিনায় যাওয়ার বিরল অভিজ্ঞতা
উপহার বিনিময়ে সতর্ক থাকা
একসঙ্গে অনেক মুরগি জবাইয়ের ক্ষেত্রে বিসমিল্লাহ বলার বিধান