সর্বশেষ
বিএনপি দায়িত্বে এলে ‘ভারতের দাদাগিরি’ বন্ধে বেশি গুরুত্ব দেবে: মির্জা ফখরুল |
বিজ্ঞাপন

পবিত্র মক্কা নগরীর স্বপ্নদ্রষ্টা ও নির্মাতা কে

Admin
Nov 23, 2025

এখনকার আলো ঝলমলে মক্কা নগরীতে একসময় কোনো পানির ব্যবস্থা ছিল না। ছিল না খাবারের ব্যবস্থা। তাই খুব স্বাভাবিকভাবে সেখানে কোনো মানুষের বসবাস ছিল না। মহান আল্লাহর নির্দেশে হজরত ইবরাহিম আলাইহিস সালাম সর্বপ্রথম মক্কা নগরী আবাদ করার উদ্যোগ নেন এবং তিনি তার স্ত্রী-সন্তানকে এখানে নিয়ে এসে রেখে চলে যান।

মিসর থেকে ফিরে কেনানে আসার বছরখানেক পর হজরত ইবরাহিম (আ.)-এর প্রথম সন্তান হজরত ইসমাঈল (আ.)-এর জন্ম হয়। কিন্তু কিছু দিনের মধ্যেই তিনি শিশুসন্তান ও তার মা হাজেরাকে মক্কার বিজন পাহাড়ি উপত্যকায় নিঃসঙ্গভাবে রেখে আসার এলাহি নির্দেশ লাভ করেন। এটা ছিল অত্যন্ত মর্মান্তিক পরীক্ষা।

অতঃপর হজরত ইবরাহিম (আ.) হজরত হাজেরা (আ.) এবং শিশু ছেলে হজরত ইসমাঈল (আ.)-কে সঙ্গে নিয়ে বের হলেন এ অবস্থায় যে হজরত হাজেরা (আ.) শিশুকে দুধ পান করাতেন। অবশেষে যেখানে কাবার ঘর অবস্থিত, হজরত ইবরাহিম (আ.) তাদের উভয়কে সেখানে নিয়ে এসে মসজিদের উঁচু অংশে জমজম কূপের ওপর অবস্থিত একটা বিরাট গাছের নিচে তাদের রাখলেন। তখন মক্কায় না ছিল কোনো মানুষ, না ছিল কোনো পানির ব্যবস্থা। পরে তিনি তাদের সেখানেই রেখে গেলেন।

আর এ ছাড়া তিনি তাদের কাছে রেখে গেলেন একটি থলের মধ্যে কিছু খেজুর আর একটি মশকে কিছু পরিমাণ পানি। অতঃপর হজরত ইবরাহিম (আ.) ফিরে চললেন। তখন হজরত ইসমাঈল (আ.)-এর মা পিছু পিছু এলেন এবং বলতে লাগলেন, হে ইবরাহিম! আপনি কোথায় চলে যাচ্ছেন? আমাদের এমন এক ময়দানে রেখে যাচ্ছেন, যেখানে না আছে কোনো সাহায্যকারী, আর না আছে কোনো ব্যবস্থা। তিনি এ কথা তাকে বারবার বললেন। কিন্তু হজরত ইবরাহিম (আ.) তার দিকে তাকালেন না।

তখন হজরত হাজেরা (আ.) তাকে বললেন, এর আদেশ কি আপনাকে আল্লাহ দিয়েছেন? তিনি বলেন, হ্যাঁ। হজরত হাজেরা (আ.) বলেন, তাহলে আল্লাহ আমাদের ধ্বংস করবেন না। অতঃপর তিনি ফিরে এলেন। আর হজরত ইবরাহিম (আ.)ও সামনে চললেন। চলতে চলতে যখন তিনি গিরিপথের বাঁকে পৌঁছলেন, যেখানে স্ত্রী ও সন্তান তাকে আর দেখতে পাচ্ছে না, তখন তিনি কাবাঘরের দিকে মুখ করে দাঁড়ালেন। অতঃপর তিনি দু’হাত তুলে এ দোয়া করলেন, আর বলেন, ‘হে আমার রব! আমি আমার পরিবারের কতককে আপনার সম্মানিত ঘরের কাছে এক অনুর্বর উপত্যকায়..., যাতে আপনার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে।’ -সূরা ইআরও পড়ুন :

আর মা হাজেরা হজরত ইসমাঈল (আ.)-কে স্বীয় স্তনের দুধ পান করাতেন এবং নিজে ওই মশক থেকে পানি পান করতেন। অবশেষে মশকে যা পানি ছিল তা ফুরিয়ে গেল। তিনি নিজে তৃষ্ণার্ত হলেন এবং তার শিশুপুত্রটিও তৃষ্ণায় কাতর হয়ে পড়ল। তিনি শিশুটির দিকে দেখতে লাগলেন। তৃষ্ণায় তার বুক ধড়ফড় করছে। সে মাটিতে পড়ে ছটফট করছে। শিশুপুত্রের এ করুণ অবস্থার প্রতি তাকানো অসহনীয় হয়ে পড়ায় তিনি সরে গেলেন আর তার অবস্থানের নিকটবর্তী পর্বত ‘সাফা’কে একমাত্র তার নিকটতম পর্বত হিসেবে পেলেন। অতঃপর তিনি তার ওপর উঠে দাঁড়ালেন এবং ময়দানের দিকে তাকালেন। এদিকে-সেদিকে তাকিয়ে দেখলেন, কোথায়ও কাউকে দেখা যায় কি না? কিন্তু তিনি কাউকে দেখতে পেলেন না। তখন ‘সাফা’ পর্বত থেকে নেমে পড়লেন। এমনকি যখন তিনি নিচু ময়দান পর্যন্ত পৌঁছলেন, তখন তিনি তার কামিজের এক প্রান্ত তুলে ধরে একজন ক্লান্ত-শ্রান্ত মানুষের মতো ছুটে চললেন। অবশেষে ময়দান অতিক্রম করে ‘মারওয়া’ পাহাড়ের কাছে এসে তার ওপর উঠে দাঁড়ালেন। অতঃপর এদিকে-সেদিকে তাকালেন, কাউকে দেখতে পান কি না? কিন্তু কাউকেই দেখতে পেলেন না। এভাবে সাতবার দৌড়াদৌড়ি করলেন।

নবী কারিম (সা.) বলেছেন, এ জন্যই মানুষ এ পর্বত দু’টির মধ্যে সাঈ করে থাকে। অতঃপর তিনি যখন মারওয়া পাহাড়ে উঠলেন, তখন একটি শব্দ শুনতে পেলেন এবং তিনি নিজেকেই নিজে বললেন, একটু অপেক্ষা করো। তিনি মনোযোগ দিয়ে শুনলেন। তখন তিনি বললেন, তুমি তো তোমার শব্দ শুনিয়েছ। যদি তোমার নিকট কোনো সাহায্যকারী থাকে। হঠাৎ যেখানে জমজম কূপ অবস্থিত, সেখানে তিনি একজন ফেরেশতা দেখতে পেলেন। সেই ফেরেশতা আপন পায়ের গোড়ালি দ্বারা আঘাত করলেন। ফলে পানি বের হতে লাগল। তখন হজরত হাজেরা (আ.)-এর চারপাশে নিজ হাতে বাঁধ দিয়ে এক হাউসের মতো করে দিলেন এবং হাতের কোষভরে তার মশকটিতে পানি ভরতে লাগলেন। তখনও পানি উপচে উঠছিল। ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, নবী কারিম (সা.) বলেছেন, ইসমাঈলের মাকে আল্লাহ রহম করুন। যদি তিনি বাঁধ না দিয়ে জমজমকে এভাবে ছেড়ে দিতেন, যদি কোষে ভরে পানি মশকে জমা না করতেন, তাহলে জমজম একটি কূপ না হয়ে একটি