ভূমিকম্পের ভয়াবহ মুহূর্তের অভিজ্ঞতা শোনালেন তাইজুল
সকাল ১০টা ৩৮ মিনিট। মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে তখন চলছিল বাংলাদেশ-আয়ারল্যান্ড টেস্টের তৃতীয় দিনের খেলা। হঠাৎই রিখটার স্কেলে ৫.৭ মাত্রার ভূমিকম্পে দুলে উঠল পুরো ঢাকা! শহরের কেন্দ্রে থাকা মিরপুর মাঠের পরিবেশ মুহূর্তেই পাল্টে গেল। আয়ারল্যান্ডের লরকান টাকার ও স্টিফেন ডোহানির জুটি বাংলাদেশের বোলারদের চাপে ফেলেছিল। ঠিক সেই সময়ই স্টেডিয়ামের প্রেসবক্স থেকে শুরু করে গ্যালারি-সব জায়গা কেঁপে ওঠে আতঙ্কে!
পাঁচতলার প্রেসবক্স ছেড়ে সাংবাদিকেরা নামতে শুরু করেন নিচে। বাইরে বেরিয়ে আসেন ধারাভাষ্যকার, নিরাপত্তাকর্মী, সাপোর্ট স্টাফের সদস্যরা। সবাই তখন একই প্রশ্নের ভেতর, ঝাঁকুনিটা কত বড়?
বাংলাদেশ-আয়ারল্যান্ড টেস্টের খেলা থেমে যায় প্রায় তিন মিনিট। মাঠে থাকা ক্রিকেটাররা প্রথমে কিছুই বুঝতে পারেননি। পরে তারা মাঝমাঠে দাঁড়িয়ে সামলান সেই অস্বস্তিকর মুহূর্ত। দিনশেষের সংবাদ সম্মেলনে তাইজুল ইসলাম জানালেন, কীভাবে তিনি সেই সময়টা অনুভব করেছিলেন। তার ভাষায়, প্রথম দিকে কোনো অস্বাভাবিকতা টের পাননি। তবে একপর্যায়ে মিডিয়া বক্স আর আশপাশের কাচঘেরা জায়গা থেকে শব্দ শোনা যায়, আর তখনই শারীরিকভাবে দুলুনি বুঝতে পেরে আতঙ্ক তৈরি হয়। তাইজুল স্পষ্ট করেই বললেন, ‘ওই সময়ে একটু আতঙ্ক কাজ করেছে।’
মাঠের বাইরেও একই পরিস্থিতি। বিসিবি অফিস থেকে শুরু করে গ্যালারি পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে ভয়। কোচ ফিল সিমন্সও পরে জানান, তাদের দলেও আতঙ্কের ছাপ পড়েছিল। খেলা চলাকালীন ভূমিকম্পের মতো ঘটনা যে মানসিক ধাক্কা দেয়, সেটি দলের মধ্যে ছড়িয়ে গিয়েছিল বলে জানান তিনি।
আয়ারল্যান্ড দলের কোচ হাইনরিখ মালানের অভিজ্ঞতা আবার কিছুটা ভিন্ন। নিউজিল্যান্ডে থাকার কারণে ভূমিকম্পের অভিজ্ঞতা তার বহুবারই হয়েছে। কিন্তু মিরপুরের কম্পনে প্রথম অনুভূতির পাশাপাশি তার মাথায় আরও বড় চিন্তা এসে ভিড়েছিল-কোনো বড় ক্ষয়ক্ষতি কি হলো?
সংবাদ সম্মেলনে তাইজুল আজ বলেন, ‘প্রথমে বুঝিনি (ভূমিকম্প হচ্ছে)। কিন্তু একটা সময় মিডিয়া বক্স এবং যে যে জায়গাগুলোতে কাচ ছিল, ওখান থেকে শব্দ আসছিল। তারপর শারীরিকভাবেও অনুভব করেছি। ওই সময়ে একটু আতঙ্ক কাজ করেছে।’
আয়ারল্যান্ড দলের প্রধান কোচ হাইনরিখ মালান বলছিলেন, ‘দেখুন, এটা কখনোই ভালো অনুভূতি নয়। বোঝার চেষ্টা করেছিলাম ওই সময়ে কী হচ্ছিল। একই সঙ্গে ভূমিকম্পের বড় প্রভাবের কথাও ভাবনায় এসেছে। আশা করি খুব বাজে কিছু হয়নি।’
ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল ঢাকার খুব কাছেই-নরসিংদীর মাধবদী, মাত্র ৩৭ কিলোমিটার দূরে। ঢাকার বহু ভবন দুলে ওঠে, কোথাও কোথাও হেলে পড়ার ঘটনাও ঘটে। বংশালে তিনজনের মৃত্যুর খবর আতঙ্ক আরও বাড়িয়ে দেয়। খেলার বাইরে থেকেও ক্রিকেটাররা প্রতিক্রিয়া দেন। তাসকিন আহমেদ সামাজিক মাধ্যমে লেখেন, পৃথিবীর ক্ষণস্থায়িত্বের কথা মনে করিয়ে দেওয়া এই ভূমিকম্পের পর আল্লাহর হেফাজতের দোয়া করা ছাড়া উপায় নেই।
সব মিলিয়ে আতঙ্কের মাঝেই ক্রিকেটে ফিরে আসে দুই দল। দিনের শেষে বাংলাদেশ এগিয়ে থাকে ৩৬৭ রানে। দ্বিতীয় ইনিংসে ১ উইকেটে ১৫৬ রান নিয়ে সাদমান ইসলাম ও মুমিনুল হক দিন শেষ করেন নিরাপদ অবস্থানে!
ফাইনালে ভারতের কাছে হার হিমু-বন্যার, রুপা জিতল বাংলাদেশ
ভোরের নাশতা, আগে বাসে ওঠা—মুশফিকের পেশাদারত্বে মুগ্ধ আয়ারল্যান্ডের কোচ
এটাই ‘শক্তিশালী’ স্কোয়াড, সুযোগ দেখছেন জামাল
ভারত ম্যাচে পোস্টের নিচে মিতুলেই আস্থা কাবরেরার
মিরপুর টেস্ট: ভালো খেলতে খেলতে আউট হয়ে গেলেন সাদমান