মাদায়েনে সালেহ নিয়ে নবী কারিম সা. যা বলেছেন
আদ ও সামুদ একই দাদার বংশধরের দুই ব্যক্তির নাম। সামুদ জাতি ছিল আদ জাতিরই পরবর্তী শাখা। হজরত হুদ (আ.) ও তার যেসব ইমানদার সঙ্গী আল্লাহর আজাব থেকে রক্ষা পেয়েছিল, এরা তাদের বংশধর। এ জাতিকে দ্বিতীয় আদও বলা হয়। আরব ও সিরিয়ার মধ্যবর্তী অঞ্চলকে তখন হিজর বলা হতো, সে এলাকায় এ জাতি বসবাস করত। জায়গাটি বর্তমানে মাদায়েনে সালেহ নামে বেশি পরিচিত। সামুদ জাতি ছিল নবী হজরত সালেহ (আ.)-এর সম্প্রদায়। তারা আরব বংশোদ্ভূত ছিল।
মাদায়েনে সালেহ সৌদি আরবের মদিনা প্রদেশের আল উলা সেক্টরে অবস্থিত। ১৯৭২ সাল থেকে এই অঞ্চলটি সরকারিভাবে সংরক্ষণকাজ শুরু হয়। ২০০৮ সালে ইউনেস্কো মাদায়েনে সালেহকে বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানে তালিকাভুক্ত করে, যা সৌদি আরবের প্রথম বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান। মাদায়েনে সালেহ আল উলা থেকে ২০ কি.মি উত্তরে, মদিনা থেকে ৪০০ কিমি. উত্তর-পশ্চিমে এবং জর্ডানের পেত্রা নগরী থেকে ৫০০ কিমি. দক্ষিণ-পূর্ব দিকে অবস্থিত।
যেহেতু তারা স্থাপত্যশিল্পে পারদর্শী ছিলেন, এই অঞ্চলেও পাথর কেটে বাড়ি বানান। তাদের বংশধররাও স্থাপত্যশিল্পে পারদর্শী হয়। কয়েক প্রজন্ম পরে তারা যখন শিরক করতে শুরু করে, আল্লাহতায়ালা তাদের কাছে হজরত সালেহ (আ.)-কে প্রেরণ করেন। তিনি তাদেরকে এক আল্লাহর ইবাদতের দাওয়াত দেন, যিনি পাহাড় কেটে প্রাসাদের মতো ঘর বানানোর তওফিক দিয়েছেন তার অনুগ্রহ স্বীকার করতে বলেন এবং ফাসাদ সৃষ্টি না করার পরামর্শ দেন। -সূরা আরাফ: ৭৪
কিন্তু তারা হজরত সালেহ (আ.)-এর দাওয়াত প্রত্যাখ্যান করে এবং আল্লাহর নাফরমানি করে যায়।
কাফেরেরা যখন দেখল হজরত সালেহ (আ.)-কে কোনোভাবেই নিরস্ত করা যাচ্ছে না, তখন অদ্ভূত এক আবদার করে বসল। তারা ভেবেছিল হজরত সালেহ (আ.) কখনোই এই আবদার পূরণ করতে পারবেন না, এর পরে তাদের আর দাওয়াতও দেবেন না। তারা হজরত সালেহ (আ.)-কে বলল, আপনি সত্যি সত্যিই আল্লাহর পয়গম্বর হন, তাহলে ওই পাহাড় থেকে একটি সুস্থ-সবল ও দশ মাসের গর্ভবতী উট বের করে দেখান।
হজরত সালেহ (আ.) প্রথমে তাদেরকে অঙ্গীকার করতে বললেন, যদি আমি তোমাদের আবদার পূরণ করি, তবে আল্লাহর প্রতি ইমান আনবে। তারা সবাই অঙ্গীকার করল।
এরপর হজরত সালেহ (আ.) আল্লাহর কাছে দোয়া করলে বিকট শব্দে পাথর ফেটে মাদি উট বের হয়, সঙ্গে সঙ্গেই বাচ্চা প্রসব করে। কিন্তু এত বড় মুজিজা দেখেও তারা ইমান আনেনি। বরং কিছুদিন পর তারা ওই মাদি উট এবং তার বাচ্চাকে নির্মমভাবে হত্যা করে। -তাফসিরে মাআরেফুল কোরআন: ৩/৫৩৯-৫৪০
হজরত সালেহ (আ.) তখন অশ্রুভরা চোখে তার জাতিকে বললেন, হে দুর্ভাগা জাতি! তোমরা কি ধৈর্য ধরতে পারলে না? এখন আল্লাহর আজাবের অপেক্ষায় থাকো।
এর তিনদিন পর অবধারিত শাস্তি আসে- এক বিকট আওয়াজ হয়, সেই আওয়াজে যে যেই অবস্থায় ছিল সেই অবস্থাতেই মৃত্যুবরণ করে।
হজরত সালেহ (আ.)-এর দাওয়াতে যে কয়জন ইমান গ্রহণ করেছিলেন, আল্লাহর নির্দেশে তাদের নিয়ে হজরত সালেহ (আ.) নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যান।
৯ম হিজরিতে হজরত রাসুলে কারিম (সা.) যখন রোমান বাহিনীর সম্ভাব্য হামলার মোকাবেলায় তাবুক অভিযানে বের হন, পথিমধ্যে এই অঞ্চল পড়ে। হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) তখন সাহাবিদের উদ্দেশ্যে বলেন, যারা নিজেরাই নিজেদের ওপর জুলুম করেছিল, তোমরা তাদের আবাসভূমিতে প্রবেশ করো না- যতক্ষণ না তোমাদের চোখে অশ্রু ঝরে। কারণ, হতে পারে তাদের ওপর যে আজাব এসেছিল তোমাদের ওপরও তা আসবে। -সহিহ বোখারি: ৩৩৮১
আরেক হাদিসে এসেছে, হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) সাহাবিদের নির্দেশ দেন, তোমরা এই কুয়ার পানি পান করো না, এখান থেকে পানি উঠিয়ো না। তারা বললেন, আমরা তো ইতোমধ্যে সেই পানি দিয়ে আটা মেখে ফেলেছি এবং পানি উঠিয়েছি। তখন তিনি তাদের নির্দেশ দিলেন- সেই মাখা আটা ফেলে দাও এবং সেই পানি ফেলে দাও। -সহিহ বোখারি: ৩৩৭৮
এসব হাদিসের আলোকে উলামায়ে কেরাম বলেন, শখের বশে মাদায়েনে সালেহে ঘুরতে যাওয়া মোটেও উচিৎ নয়, ওটা ট্যুর করার জায়গা নয়। কোনো কারণে যেতে হলে অন্তরে ভয় ও চোখে পানি নিয়ে যেতে হবে।
কোরআনবিষয়ক গবেষক ড. আল-নাজ্জারের ইন্তেকাল
মক্কা নগরীর বিশেষ ১০ বৈশিষ্ট্য
হিজরতের পথে মক্কা থেকে মদিনায় যাওয়ার বিরল অভিজ্ঞতা
উপহার বিনিময়ে সতর্ক থাকা
একসঙ্গে অনেক মুরগি জবাইয়ের ক্ষেত্রে বিসমিল্লাহ বলার বিধান