সর্বশেষ
বিএনপি দায়িত্বে এলে ‘ভারতের দাদাগিরি’ বন্ধে বেশি গুরুত্ব দেবে: মির্জা ফখরুল |
বিজ্ঞাপন

সাকিবের পর নতুন গল্প তাইজুলের হাতে

Admin
খেলা
Nov 26, 2025
সাকিবের পর নতুন গল্প তাইজুলের হাতে

মিরপুর টেস্ট শুরুর আগে পুরোটা আলো ছিল মুশফিকুর রহিমকে ঘিরে। সেটাই তো স্বাভাবিক। এটি যে তার শততম টেস্ট। মুশি নিজেও রঙনি করে রেখেছেন সেই উপলক্ষ্য। আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে সেঞ্চুরি করে নিজেকে নিয়ে গেছেন অনন্য এক উচ্চতায়। পরের ইনিংসে হাফসেঞ্চুরি। ম্যাচের সেরা তিনিই।

তবে শেরেবাংলায় দ্বিতীয় টেস্ট শেষে আলোচনায় ছিলেন আরেকজন-তাইজুল ইসলাম। সেই আলোচনার ধরন ছিল খানিকটা আলাদা। সাধারণত নতুন রেকর্ড গড়লেই তুলনা শুরু হয় পুরোনো তারকাদের সঙ্গে। কিন্তু তাইজুলের ভাষা ছিল অন্যরকম। নিজের ২৫০ উইকেটের মাইলফলক, কিংবা সাকিব আল হাসানকে পেছনে ফেলে বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসে শীর্ষ উইকেটশিকারী হওয়ার বিষয়, এসব নিয়ে অতিরিক্ত আবেগ নয়, বরং শান্ত বাস্তবতা নিয়েই কথা বললেন তিনি।


রাজনৈতিক কারণে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে দীর্ঘ ১৩ মাস দূরে সাকিব। ঘরোয়া কোনো লিগেও তাকে দেখা যায়নি। এ অবস্থায় জাতীয় দলের কোচ হওয়ার গুঞ্জন উঠলেও তাইজুল তা খুব হালকাভাবে দেখলেন। তার মতে, কোচ নির্বাচনের অধিকার একান্তই ক্রিকেট বোর্ডের, আর দলের খেলোয়াড় হিসেবে যেকেউ দায়িত্বে এলে তাঁর সঙ্গে কাজ করাই তাদের পেশাদার দায়িত্ব। তাইজুলের স্পষ্ট মন্তব্যে বোঝা যায়, ব্যাক্তিগত উত্তেজনার চেয়ে পেশাদারিত্বকেই তিনি বড় করে দেখেন।

তাইজুল বলছিলেন, ‘এখানে রোমাঞ্চিত হওয়ার কিছু নেই। তিনি একজন বড় তারকা। এখন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) তাকে কোচ দেয়, এটা আসলে ক্রিকেট বোর্ডের সিদ্ধান্ত হবে। যিনি কোচ হিসেবে আসবেন, তার সঙ্গে আমাদের কাজ করতে হবে।’



তাইজুলের রেকর্ড স্পর্শের রাতেই সাকিব অভিনন্দনের হাত বাড়ান। ফেসবুকে তিনি লেখেন, ৪০০ টেস্ট উইকেট দেখার ইচ্ছা রাখেন এই জুনিয়র সতীর্থের ক্যারিয়ারের শেষ প্রান্তে গিয়ে। আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্টে দুই ইনিংস মিলিয়ে আট উইকেট পাওয়ার পর তাইজুলের মোট উইকেট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৫০–এ।

তাইজুলের বয়স এখন ৩৩। সামনে কত বছর খেলবেন, বাংলাদেশ বছরে কতটি টেস্ট খেলবে-এসবই নির্ধারণ করবে ৪০০ উইকেটের পথে যাত্রা কতটা বাস্তবসম্মত। তবে নিজেকে নিয়ে কোনো বাড়তি প্রচারণা নয়, তাইজুলের মনোযোগ শুধু এক জায়গায়, পারফরম্যান্স। তিনি মনে করেন, ধারাবাহিক পারফরম্যান্স থাকলে উইকেট নিজে থেকেই আসবে, আর সাকিবও সেই সম্ভাবনার হিসাব কষেই ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন। সমর্থকদের প্রত্যাশা পূরণে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার কথাও জানালেন তিনি।

বলছিলেন, ‘দেখুন, সাকিব ভাই এই চিন্তা করে বলতে পারেন যে আমাদের যতগুলো টেস্ট হয়, প্রত্যেক বছর, দুই তিন বছরে কতগুলো টেস্ট হতে পারে বা পাঁচ বছরে কতগুলো টেস্ট হতে পারে, সেরকম আনুমানিক বলে একটা আমাকে জায়গা দিয়েছেন যে ৪০০ উইকেটের কাছাকাছি আমি যেতে পারি। আমার কাছে যেটা মনে হয়। আমি আগেই বলেছি যে ইনশাআল্লাহ আমিও চেষ্টা করব। যারা আমাকে নিয়ে আশা করেন, এই জিনিসটা পূরণ করার জন্য।’

এই সিরিজে তাইজুল ছিলেন বাংলাদেশের সেরা পারফরমার। দুই টেস্টে সর্বোচ্চ ১৩ উইকেট নিয়ে হয়েছেন সিরিজসেরা। ৫৭ ম্যাচে তার ২৫০ উইকেট দেশের ক্রিকেট ইতিহাসে এক বিশেষ স্থানে বসিয়েছে তাকে। বাংলাদেশের টেস্টে ১০০ বা তার বেশি উইকেট পাওয়া চার বোলারই স্পিনার-তাইজুল, সাকিব, মেহেদী হাসান মিরাজ ও মোহাম্মদ রফিক।

স্পিন-নির্ভর ক্রিকেট সংস্কৃতিতে তাইজুল এখন শুধু রেকর্ডধারী নন, ধারাবাহিকতার নতুন মাপকাঠিও!